গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক ভবনে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে পর্যায়ক্রমে এক কোটি ইয়াবা উৎপাদনের পরিকল্পনায় স্থাপিত কথিত কারখানায় অভিযান চালিয়ে নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; উৎপাদন শুরুর আগেই অভিযানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান, সরঞ্জাম ও ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টঙ্গীর পাগাড় এলাকার আলেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন নির্মাণাধীন চারতলা একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় কারখানাটি স্থাপনের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে নাজমুলের বাড়ির ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ভবনের তৃতীয় তলায় ইয়াবা তৈরির উদ্দেশ্যে স্থাপিত পরীক্ষাগার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। কারখানাটি তখনো উৎপাদনে যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি জানিয়েছেন, কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল-অটোমোবাইল) পাস করার পর তিনি ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ইয়াবা তৈরির প্রক্রিয়া শেখার চেষ্টা করেন। প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি এ কাজে জড়ানোর পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি বলেছেন, টঙ্গী, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকায় ইয়াবার চাহিদা বেশি থাকায় অধিক লাভের আশায় নিজেদের বাড়িতে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রথমে প্রতিদিন ৫০ লাখ এবং পরে উৎপাদন বাড়িয়ে এক কোটি ইয়াবা বড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। উৎপাদন শুরু হলে টঙ্গীর মাজার বস্তি, ব্যাংকমাঠ বস্তি, কেরানিরটেক বস্তি, টঙ্গী নদীবন্দর এলাকা ও আশপাশের মাদকবাজারে সেগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের তরল ও গুঁড়া রাসায়নিক পদার্থ, কাঁচামাল, কাচের পাত্র, পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, পরিমাপ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ উপকরণ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া রাসায়নিক উপাদানের নাম ও পরিমাপসংক্রান্ত তথ্য লেখা একটি খাতা এবং ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তবে তাঁর মাদকাসক্তি কিংবা কারখানা পরিচালনার পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।
ওসি আরও জানান, কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে গাজীপুর, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারত। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের অর্থায়ন বা সহযোগিতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূরে আলম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার নাজমুল ইসলাম বাপ্পিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
