ঘুমের সমস্যা হলে অনেকেই মেলাটোনিন সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হেলথওয়েলথ সামিটে ঘুমের সমস্যা ও মেলাটোনিনের ব্যবহার নিয়ে কথা বলেন এই বিশেষজ্ঞ।
মেলাটোনিনকে অনেকে সাধারণ প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট মনে করলেও এটি মূলত একটি হরমোন। মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে হরমোনটি তৈরি হয়। শরীরের ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ নিয়ন্ত্রণে এটি ভূমিকা রাখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় মেলাটোনিন গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কেউ কেউ ঘুমের জন্য সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।
বাগরোদিয়ার মতে, ঘুমের সমস্যা হলেই কোনো একটি বড়ি খেয়ে তার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং কেন ঘুম আসছে না, সেটি বোঝা বেশি জরুরি।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত চিন্তা ও উদ্বেগের মতো বিষয় ঘুমের সমস্যার পেছনে কাজ করতে পারে। তাই শুধু ঘুমের ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের দিকে না তাকিয়ে মানসিক ও স্নায়বিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ক্যামোমাইল ও অশ্বগন্ধার মতো ভেষজ উপাদান নিয়েও কথা বলেন তিনি। তবে এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি বলে জানান।
ভালো ঘুমের জন্য যেসব অভ্যাস জরুরি
ঘুমের অভ্যাস উন্নত করতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন এই স্নায়ুবিজ্ঞানী। তার মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সূর্যাস্তের তিন থেকে চার ঘণ্টা পর, অর্থাৎ রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন বসে কাজ না করে শরীরচর্চা বা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা বা উদ্বেগ থাকলে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।
ঘুমানোর অন্তত ১৫ মিনিট আগে ঘরের আলো কমিয়ে দেওয়া, মোবাইল ফোন দূরে রাখা এবং শোবার ঘর অন্ধকার, ঠাণ্ডা ও শান্ত রাখার পরামর্শও দিয়েছেন বাগরোদিয়া।
এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে পাঁচ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নেওয়া এবং ১০ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ার একটি পদ্ধতির কথা বলেছেন তিনি। পাঁচ মিনিট ধরে এই অনুশীলন করলে শরীর ও মন শিথিল হতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, ভালো ঘুমের জন্য সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
