বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের পর অনেকের জীবনেই পরিচয়ের নতুন দরজা খুলে যায়। কারও ক্ষেত্রে সেই পরিচয়ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অর্জন, আবার কেউ সেই পরিচয়ের গ-ি পেরিয়ে তৈরি করেন আলাদা অবস্থান। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের গল্পটা দ্বিতীয় দলের। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে এসে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি টিকে আছেন নিজের কাজ, উপস্থিতি ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার জনপ্রিয়তার ধরন, বদলেছে পর্দায় উপস্থিতিও; কিন্তু ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে তার অবস্থান এখনও অক্ষুণœ। আজ ১ নভেম্বর ৫৩ বছরে পা রাখছেন এই অভিনেত্রী। ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্ম ঐশ্বরিয়ার। শৈশব থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ছিল তার। একসময় স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে মডেলিংয়ের সুযোগ তাকে নিয়ে যায় অন্য পথে। ১৯৯৪ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় জয়ী হন তিনি। এই অর্জন তাকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। তবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে পাওয়া পরিচিতিকে চলচ্চিত্রে স্থায়ী অবস্থানে রূপ দেওয়া ছিল পরবর্তী বড় পরীক্ষা।
১৯৯৭ সালে মণি রত্নমের তামিল ছবি ‘ইরুভার’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ঐশ্বরিয়ার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবেই পরিচিতি পেলেও অভিনয়ের ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ এবং সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রথম ছবিটির জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান। এরপর ‘দেবদাস’ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিতে পার্বতী বা পারোর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে জায়গা পায়। পরের বছর, ২০০৩ সালে, ঐশ্বরিয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সদস্য হন। ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে এটি ছিল তার একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একই সময়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি’ ও ‘রেইনকোট’-এর মতো ছবিতে কাজ করে বাণিজ্যিক পরিচয়ের বাইরেও অভিনয়ের ভিন্ন মাত্রা দেখান তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ঐশ্বরিয়া। ২০০৪ সালে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ছবির মাধ্যমে ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরে ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’-এর মতো হলিউডের ছবিতেও দেখা গেছে তাকে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাইরে তার এই উপস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পরিচিত করে তোলে। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পান তিনি। ব্যক্তিজীবনেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ঐশ্বরিয়া। ২০১১ সালের নভেম্বরে তাদের কন্যা আরাধ্যার জন্ম হয়। সংসার ও মাতৃত্বের কারণে অভিনয়ে কিছুটা বিরতি নিলেও চলচ্চিত্র থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ দিয়ে বড় পর্দায় ফেরেন। এরপর ‘সর্বজিৎ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং ‘ফ্যানি খান’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে মণি রত্নম পরিচালিত ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজ। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম পর্ব এবং ২০২৩ সালের দ্বিতীয় পর্বে নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।
