Close Menu
ভয়েস অফ বাংলাদেশ

    Subscribe to Updates

    Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.

    What's Hot

    আইসিইউতে মেঘলা মুক্তা, কী হয়েছিল অভিনেত্রীর

    জুলাই ২৯, ২০২৬

    সংখ্যার গল্পে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দান্ত জয়

    জুলাই ২৯, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়বে

    জুলাই ২৯, ২০২৬
    Facebook X (Twitter) Instagram
    , 
    Facebook X (Twitter) YouTube RSS
    ভয়েস অফ বাংলাদেশ
    • প্রচ্ছদ
    • জাতীয়
    • রাজনীতি
    • সারাদেশ
      • ঢাকা বিভাগ
      • চট্টগ্রাম বিভাগ
      • রাজশাহী বিভাগ
      • খুলনা বিভাগ
      • সিলেট বিভাগ
      • বরিশাল বিভাগ
      • রংপুর বিভাগ
      • ময়মনসিংহ বিভাগ
    • আন্তর্জাতিক
    • অপরাধ ও দুর্ণীতি
    • খেলাধুলা
    • বিনোদন
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • অর্থনীতি
    • আরও
      • আইন আদালত
      • গণমাধ্যম
      • ফিচার
      • ক্যাম্পাস
      • চাকুরী
      • ধর্ম
      • নারী ও শিশু
      • কৃষি
      • প্রবাসের খবর
      • ভ্রমণ
      • মতামত
      • লাইফস্টাইল
      • সম্পাদকীয়
      • স্বাস্থ্য
    ভয়েস অফ বাংলাদেশ
    • প্রচ্ছদ
    • আমাদের পরিবার
    • উপদেষ্টা মন্ডলী
    • জেলা প্রতিনিধি
    • বিভাগীয় সম্পাদকবৃন্দ
    • সম্পাদকবৃন্দ
    • স্টাফ রিপোর্টার
    • উপজেলা প্রতিনিধি
    প্রচ্ছদ»আন্তর্জাতিক»যোগীর উত্তর প্রদেশে কি তাহলে কোনো জায়গার মুসলিম নাম থাকবে না, বাসিন্দাদের আপত্তিও শুনছে না তাঁর সরকার

    যোগীর উত্তর প্রদেশে কি তাহলে কোনো জায়গার মুসলিম নাম থাকবে না, বাসিন্দাদের আপত্তিও শুনছে না তাঁর সরকার

    0 Views

    মোস্তফা, ফাজিল, জালাল—এই নামগুলোতে উত্তর প্রদেশের হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আপত্তি। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও নাম পাল্টাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    ভারতের উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরির একটি গ্রামে গত বছরের অক্টোবরে মরমি কবি সন্ত কবিরের স্মরণে আয়োজিত এক ধর্মীয় সমাবেশে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন রাজ্যের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এ সময় তিনি জানতে পেরে অবাক হন, গ্রামটির নাম মোস্তফাবাদ। অথচ সেখানে একজনও মুসলিম বাসিন্দা নেই। এই জনতাত্ত্বিক বিষয়টিই তাঁর কাছে মোস্তফাবাদের নাম পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট যুক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

    যোগী বলেছিলেন, ‘ভেবে দেখুন, আমি যখন এখানে আসি, তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখানে কতজন মুসলিম বসবাস করেন? আমাকে বলা হয়েছিল একজনও নয়। কিন্তু এলাকার নাম মোস্তফাবাদ। আমি বললাম, এই নাম এখনই পরিবর্তন করা উচিত। এটি মোস্তফাবাদ নয়, কবির ধাম হওয়া উচিত।’

    যোগীর দাবি, ‘ওই সব লোকেরা অযোধ্যাকে ফৈজাবাদ, প্রয়াগরাজকে এলাহাবাদ এবং কবির ধামকে মুস্তফাবাদে পরিণত করেছিল…ভাবুন, যদি আপনার পরিচয় মুছে ফেলা হয়, তবে আপনি অস্তিত্বের সংকটে পড়বেন।’

    হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেন, গ্রামটির নাম পরিবর্তন করে ‘কবির ধাম’ রাখা হবে। এর মাধ্যমে পঞ্চদশ শতাব্দীর সাধক ও সমাজ সংস্কারকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। তাঁর অনুসারীরা সেখানে একটি স্থানীয় আশ্রম গড়ে তুলেছিলেন। উত্তর প্রদেশের মতো উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলোতে দলিতদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে জাটভ ও চমার সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে কবির অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।

    যোগী আদিত্যনাথ মোস্তফাবাদের এই নাম পরিবর্তনকে ‘সাংস্কৃতিক গৌরব পুনরুদ্ধারের’ এক বৃহত্তর প্রচারের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ নামগুলোর ‘পাখণ্ড’ (ভণ্ডামি) থেকে ‘মুক্তি’ পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    যোগীর দাবি, ‘ওই সব লোকেরা অযোধ্যাকে ফৈজাবাদ, প্রয়াগরাজকে এলাহাবাদ এবং কবির ধামকে মুস্তফাবাদে পরিণত করেছিল…ভাবুন, যদি আপনার পরিচয় মুছে ফেলা হয়, তবে আপনি অস্তিত্বের সংকটে পড়বেন।’

    যোগীর সফরের পর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মুস্তফাবাদ গ্রামের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে এতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না বলে জানান তেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অবতার সিং। তাঁর অধীন মুস্তফাবাদ গ্রামটি পড়েছে।

    উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথ সরকার বেশ কয়েকটি জায়গার নাম পরিবর্তন করেছে বা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে এলাহাবাদ ও ফয়জাবাদ জেলা দিয়ে। এগুলোর নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে প্রয়াগরাজ এবং অযোধ্যা রাখা হয়েছে।

    অবতার সিং ‘দ্য ওয়্যার’কে বলেন, গ্রামবাসী নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন। এর ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের সন্তানদের স্থানান্তরের প্রশংসাপত্র পেতে এবং চাকরি পেতে সমস্যা তৈরি হবে। তাঁরা বলেছিলেন, তাঁরা উন্নয়ন চান, নাম পরিবর্তন নয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের কথা কে শোনে।

    অবতার সিং প্রশ্ন তুলে বলেন, স্থানীয় কবির পন্থ আশ্রমের প্রভাব ও স্বয়ং যোগীর জোরালো সমর্থনের জেরে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর প্রস্তাবটি পাস হয়। সরকারের বিরোধিতা কে করতে পারে।

    অবতার সিংয়ের মতে, ‘মোস্তফাবাগ’ নামের একটি বাগানের নামানুসারে গ্রামটি মোস্তফাবাদ নামে পরিচিত হয়েছিল। এখান মূলত ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সম্প্রদায়—কুর্মি, কাহার, যাদব ও কুমহার এবং চমার/জাটভ (দলিত) সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, জানা ইতিহাসের মধ্যে এই গ্রামে কোনো মুসলিম বসবাস করেননি। তবে নাম দেখে তাঁর মনে হয়, অতীতে নিশ্চয়ই তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করতেন। মুস্তফাবাদের নাম পরিবর্তনের সরকারি প্রক্রিয়া চলছে।

    তবে মুস্তফাবাদ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

    মুসলিম শাসকদের ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলা

    উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথ সরকার বেশ কয়েকটি জায়গার নাম পরিবর্তন করেছে বা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে এলাহাবাদ ও ফয়জাবাদ জেলা দিয়ে। এগুলোর নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে প্রয়াগরাজ এবং অযোধ্যা রাখা হয়েছে।

    জালালাবাদ এখন থেকে ‘পরশুরামপুরী’ নামে পরিচিত হবে। পরশুরামের নামানুসারে এই জায়গার নাম রাখা হয়েছে, যাঁকে তাঁরা মনে করেন কুঠারধারী যোদ্ধা দেবতা এবং বিষ্ণুর অবতার।

    মোঘলসরাই শহর এবং একই নামের সুপরিচিত রেলওয়ে জংশনটির নামও ভারতীয় জনসংঘের নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামে রাখা হয়।

    বিজেপির আদর্শিক প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বড় বড় শহর ও কেন্দ্রের বাইরে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার ক্রমবর্ধমানভাবে ছোট এবং তুলনামূলকভাবে অপরিচিত জায়গাগুলোর দিকে নজর দিয়েছে। এগুলোর সব কটি না হলেও অধিকাংশের মধ্যেই একটি সাধারণ মিল রয়েছে—ওই সব জায়গার নাম শুনতে মুসলিম নামের মতো। সেগুলোর পরিবর্তে সরকার হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি বা বিজেপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত নাম বসিয়ে দিচ্ছে।

    এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার একই সঙ্গে জাতিগত পরিচয় ও হিন্দুত্ববাদ উভয়কেই সন্তুষ্ট করছে। মুসলিম শাসক ও সংস্কৃতির ইতিহাস–ঐতিহ্যকে হিন্দুকেন্দ্রিক পরিচয় দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল শাহজাহানপুর জেলার জালালাবাদ শহরের নাম পরিবর্তনে মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত (৬ জুলাই)।

    জালালাবাদ এখন থেকে ‘পরশুরামপুরী’ নামে পরিচিত হবে। পরশুরামের নামানুসারে এই জায়গার নাম রাখা হয়েছে, যাঁকে মনে করা হয় কুঠারধারী যোদ্ধা দেবতা এবং বিষ্ণুর অবতার।

    ফয়জাবাদ জেলার অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে রামমন্দির। মুসলিম নাম বলে ফয়জাবাদ জেলার নাম বদলে রাখা হয়েছে অযোধ্যা
    ফয়জাবাদ জেলার অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে রামমন্দির। মুসলিম নাম বলে ফয়জাবাদ জেলার নাম বদলে রাখা হয়েছে অযোধ্যাছবি: এএনআই

    ঐতিহ্যগতভাবে পুরোহিত শ্রেণি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে পরশুরামকে যুদ্ধংদেহী এক সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

    বিভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে এই প্রভাবশালী সম্প্রদায়কে কাছে টানার জন্য তার নাম ব্যবহার করেছে। প্রকৃতপক্ষে সাবেক কংগ্রেস নেতা এবং বর্তমানে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদাই নিজেকে ব্রাহ্মণদের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার অংশ হিসেবে ‘পরশুরামপুরী’ নামের পক্ষে জোর দাবি তুলেছিলেন।

    অবতার সিং ‘দ্য ওয়্যার’কে বলেন, গ্রামবাসী নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, এর ফলে ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের স্থানান্তরের প্রশংসাপত্র পেতে এবং চাকরি পেতে সমস্যা তৈরি হবে। তারা বলেছিলেন, তাঁরা উন্নয়ন চান, নাম পরিবর্তন নয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের কথা কে শোনে।’

    প্রসাদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘জালালাবাদ “পরশুরামপুরী” হিসেবে নতুন এক সাংস্কৃতিক পরিচয় লাভ করেছে।’

    জালালাবাদের নাম পরিবর্তন করার সময় উত্তর প্রদেশ সরকার দাবি করেছে, শহরটি ভগবান পরশুরামের জন্মস্থান হিসেবে বিখ্যাত ছিল এবং পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মগ্রন্থে এর বিশেষ উল্লেখ রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৫ সালের আগস্টে জালালাবাদের নাম পরিবর্তনের জন্য রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে ‘অনাপত্তি’ সনদ দিয়েছিল। এই জায়গার নাম সম্রাট আকবর অথবা জালাল–উদ্দিন ফিরোজ খিলজির নাম থেকে এসে থাকতে পারে।

    ১৯১০ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা এইচ আর নেভিলের লেখা শাহজাহানপুরের একটি গেজেটিয়ার অনুসারে, পুরোনো পাঠান বসতি জালালাবাদ সাধারণত দিল্লির সালতানাতের খিলজি রাজবংশের শাসক জালাল-উদ্দিন ফিরোজের নামে উৎসর্গ করা হয়। তিনি ১২৮৯ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।

    তবে নেভিল উল্লেখ করেন, এটি ‘খুব সম্ভবত, মোগল সম্রাট জালাল উদ্দিন আকবরের আমলের আগে এ জায়গার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা বা বর্তমান নামটি গ্রহণ করা হয়নি।’ নেভিল লিখেছিলেন, ‘জালালাবাদ, কান্ত ও গোলার মতো বিচ্ছিন্ন সেনানিবাস শহরগুলো দখলের আগে শাহজাহানপুরে কোনো মুসলিম বসতি ছিল না।’

    জালালাবাদ বহু বছর ধরে সমৃদ্ধ এক বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। কিন্তু ওধ ও রোহিলখণ্ড রেলওয়ে চালুর সঙ্গে সঙ্গে এর অনন্য সুযোগ-সুবিধাগুলো বিলীন হয়ে যায়। এ এলাকার বাণিজ্যকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে জায়গাটি এখন ক্ষয়িষ্ণু রূপ ধারণ করেছে বলে নেভিল উল্লেখ করেন।

    ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পরের দশকে জালালাবাদের জনসংখ্যা কিছু সময়ের জন্য কমে গিয়েছিল। সরকারি গেজেটিয়ারের মতে, শহরটিকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার কারণে এমনটি হয়েছিল। কারণ, শহরের বাসিন্দারা সে সময় এমন কিছু কাজ করেছিলেন, যার জন্য তাঁরা ব্যাপকভাবে কুখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন।

    গত জুনে কুশীনগরে এক অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেন, ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের সম্মানে ফাজিলনগর শহরটি এখন থেকে ‘পাভাগড়’ বা ‘পাওয়াগড়’ নামে পরিচিত হবে। আদিত্যনাথ বলেন, ভগবান মহাবীরের নামের মাধ্যমে এই শহর ‘নতুন এক স্বীকৃতি’ পাবে।

    বক্তৃতাকালে তাচ্ছিল্যের সুরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কেন একে ফাজিল ডাকব?’

    ফাজিলনগর কুশীনগর জেলার একটি অংশ। মূল শহর কেন্দ্র থেকে এ জায়গায় অবস্থান ১৬-২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। শাহজাহানপুরের জালালাবাদের মতোই ফাজিলনগর নামেও বিধানসভা আসন রয়েছে।

    কুশীনগর সাধারণত বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। কারণ বলা হয়ে থাকে, গৌতম বুদ্ধ সেখানে তাঁর শেষ উপদেশ দিয়েছিলেন এবং রামভরে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। তবে এ জেলা জৈন ধর্মের সঙ্গেও যুক্ত।

    ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত অবিভক্ত দেওরিয়ার (তখন কুশীনগর এ জেলার অংশ ছিল) একটি জেলা গেজেটিয়ার অনুসারে, মহাবীর প্রায়ই পাভায় (বর্তমানে ফাজিলনগর) যেতেন। সেখানে ‘কৈবল্য’ (সর্বোচ্চ জ্ঞান) লাভের আগে তিনি তাঁর শেষ ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ‘কাশি ও কোশলের রাজাদের’ পাশাপাশি ১৮টি মিত্রশক্তি, ৯ জন মল্লহ এবং ৯ জন লিচ্ছবি উপস্থিত ছিলেন।

    যোগী দাবি করেন, ‘ভগবান মহাবীরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দেশ ও সারা বিশ্বের মানুষ এখন ফাজিলনগরে আসবে।’

    ১০ জুলাই অযোধ্যায় থাকাকালে যোগী ঘোষণা দেন, রামের ভাই ভরতের তপস্যার সম্মানে ভাদরসা শহরটিকে এখন ‘ভরত নগর ভরত কুন্ড’ বলা হবে। সূচিতাগঞ্জ-খিলোনি নগর পঞ্চায়েতের নাম পরিবর্তন করে ‘মা জাওয়ালা দেবী’ রাখা হবে।

    উত্তর প্রদেশের হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর বড় ভাই ভগবান শ্রীরামের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভরত জি তাঁর ১৪ বছরের বনবাসের পুরোটা সময় ভরত কুন্ডের কাছে অপেক্ষা করেছিলেন। সেই ১৪ বছর ভগবান শ্রীরামের ‘চরণ পাদুকা’ (পবিত্র চটি) অযোধ্য শাসন করেছিল। ভরত জির আচরণ এক ভাইয়ের সঙ্গে আরেক ভাইয়ের কেমন আচরণ করা উচিত, তার একটি নিখুঁত উদাহরণ। এটি অযোধ্যার সৌভাগ্য যে শ্রীরাম, লক্ষ্মণ, ভরত ও শত্রুঘ্নের মতো মহৎ প্রাণ এখানে অবতার হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন।

    এর আগে গত জুনে যোগী ঘোষণা করেছিলেন, মোরাদাবাদের (লাইনপার) এলাকার নাম সাবেক কংগ্রেস বিধায়ক দাউ দয়াল খন্নার নামে রাখা হবে, যিনি ‘শ্রীরাম জন্মভূমি মুক্তি যজ্ঞ সমিতি’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৮০-এর দশকের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    যোগীর গুরু এবং সাবেক সংসদ সদস্য মহন্ত অবৈদ্যনাথ ছিলেন এই সমিতির সভাপতি। যোগী বলেন, ‘রামের প্রতি দাউ দয়ালের ভক্তির প্রতি এটি আমাদের কৃতজ্ঞতা।’

    গত বছর যোগী আম্বেদকর নগরের আকবরপুর বাসস্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে ‘শ্রবণ ধাম বাসস্ট্যান্ড’ রাখার ঘোষণা দেন। এটিকে তিনি ‘রামায়ণের শ্রবণ কুমারের সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মুসলিম নাম হওয়ায় এ জায়গার নাম রাখা হয়েছে প্রয়াগরাজ
    এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মুসলিম নাম হওয়ায় এ জায়গার নাম রাখা হয়েছে প্রয়াগরাজফাইল ছবি: এএনআই

    বিজেপি নেতাদের আরও দাবি

    সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি বিভিন্ন শহর, যেমন মুজাফফরনগর, সুলতানপুর, আগ্রা, আলিগড়, ফিরোজাবাদ, গাজিপুর ও গাজিয়াবাদ—এসব জায়গার নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

    বালিয়ার বিজেপি বিধায়ক কেতকী সিং গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে গাজিপুরের নাম পরিবর্তন করে পরশুরামের পিতা মহর্ষি গৌতমের নামে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গাজিপুরের মতো নাম ‘আমাদের অপমানের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়’।

    বেরেলির আরেক বিজেপি বিধায়ক গত বছর ‘ফরিদপুর’ শহরের নাম পরিবর্তন করে ‘পীতাম্বরপুর’ রাখার দাবি জানান।

    গত মে মাসে বিজেপি বিধায়ক নন্দ কিশোর গুর্জর দাবি করেন, গাজিয়াবাদের নাম পরিবর্তন করে ‘মহারাজা অগ্রসেন নগর’ রাখা হোক। উগ্রবাদী যোগী নিজেও অতীতে আভাস দিয়েছিলেন, আকবরপুর ও আজমগড়ের (আর্যমগড়) নাম পরিবর্তন করা হতে পারে।

    ২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক ইসলামি বা মুসলিম স্থানগুলোর নাম পরিবর্তন করে হিন্দু সাংস্কৃতিক বা পৌরাণিক বিকল্প নাম রাখার তৎপরতা বিজেপি আরও জোরদার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নিউজটি শেয়ার করুন .

    Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr WhatsApp Email

    আপলোডকারীর তথ্য
    admin
    • Website

    এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ

    সূর্যের কেন্দ্রের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ উত্তপ্ত ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির পথে চীন, দেশটির উদ্দেশ্য কী

    জুলাই ২৯, ২০২৬

    চীন থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে ইরান

    জুলাই ২৯, ২০২৬

    ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

    জুলাই ২০, ২০২৬

    ভারত সফরে দিল্লির আগে কেন কলকাতায় যান রুবিও

    মে ২৪, ২০২৬

    পাকিস্তানের কোয়েটায় রেললাইনে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪

    মে ২৪, ২০২৬

    ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকতেই বন্দুক হামলা,হামলাকারী নিহত

    মে ২৪, ২০২৬
    Leave A Reply Cancel Reply

    • সর্বশেষ সংবাদ
    • জনপ্রিয় সংবাদ

    আইসিইউতে মেঘলা মুক্তা, কী হয়েছিল অভিনেত্রীর

    সংখ্যার গল্পে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দান্ত জয়

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়বে

    প্রথম ছয় মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের রেকর্ড ১,৪২৩ কোটি টাকা মুনাফা

    বগুড়ায় চালু হচ্ছে পাইলট ট্রেনিং একাডেমি, জানালেন বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী

    প্রকাশকঃ এনামুল হাফিজ
    সম্পাদকঃ আব্দুল কাদের

    কর্পোরেট অফিসঃ টিএমসি বিল্ডিং, ৫২, নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা-১০০০

    সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ রহমান ম্যানশন, ৪র্থ তলা, ৬৯ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪

    +৮৮০২, +৮৮ ০১৭০৭০০৯০০৫

    voiceofbd.editor@gmail.com

    www.voiceofbd24.com

    ২০২৬ © ভয়েস অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
    • প্রচ্ছদ
    • আমাদের পরিবার
    • উপদেষ্টা মন্ডলী
    • জেলা প্রতিনিধি
    • বিভাগীয় সম্পাদকবৃন্দ
    • সম্পাদকবৃন্দ
    • স্টাফ রিপোর্টার
    • উপজেলা প্রতিনিধি

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Powered by
    ►
    Necessary cookies enable essential site features like secure log-ins and consent preference adjustments. They do not store personal data.
    None
    ►
    Functional cookies support features like content sharing on social media, collecting feedback, and enabling third-party tools.
    None
    ►
    Analytical cookies track visitor interactions, providing insights on metrics like visitor count, bounce rate, and traffic sources.
    None
    ►
    Advertisement cookies deliver personalized ads based on your previous visits and analyze the effectiveness of ad campaigns.
    None
    ►
    Unclassified cookies are cookies that we are in the process of classifying, together with the providers of individual cookies.
    None
    Powered by