হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের গুরুগ্রামের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের এমএআইআইএনএসের চেয়ারম্যান ও নিউরোলজিস্ট চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত।
মাথাব্যথা ছাড়াও হতে পারে স্ট্রোক
অনেকের ধারণা, স্ট্রোক হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হবেই। কিন্তু চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, সব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা হয় না। অনেক সময় কোনো ব্যথা ছাড়াই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তরুণদেরও স্ট্রোক হতে পারে
স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের রোগ এমন ধারণাও ভুল। চিকিৎসকের মতে, বর্তমানে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুমের মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।
উপসর্গ কমে গেলেও বিপদ কেটে যায় না
হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই তখন বিষয়টি আর গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এমন সাময়িক উপসর্গও মিনি স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাকের (টিআইএ) লক্ষণ হতে পারে। টিআইএকে অনেক সময় বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়। এর উপসর্গ সাময়িকভাবে চলে গেলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে।
ঘুমিয়ে বা ঘরোয়া উপায়ে স্ট্রোকের চিকিৎসা নয়
মাথাব্যথা কিংবা শরীরে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করলে অনেকেই বিশ্রাম নেন, ঘুমিয়ে পড়েন কিংবা ঘরোয়া উপায়ে উপশমের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এমন অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে।
চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, স্ট্রোকের সময় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। যত দেরি হয়, মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির আশঙ্কা তত বাড়ে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসা বা বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
যে ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
চিকিৎসকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। বিশেষ করে—
- হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই আচমকা প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হওয়া, বিশেষ করে জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা মনে হলে।
- শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া: হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশের শক্তি কমে যাওয়া।
- কথা জড়িয়ে যাওয়া: হঠাৎ কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া
- দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, এক বা দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা দৃষ্টি হারানো।
- বিভ্রান্তি, বারবার বমি বা খিঁচুনি: মাথাব্যথার সঙ্গে হঠাৎ বিভ্রান্তি, বারবার বমি কিংবা খিঁচুনি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
এ ছাড়া কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
স্ট্রোকের লক্ষণ চিনতে মনে রাখুন BE-FAST
স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা BE-FAST পদ্ধতির কথা বলেন। এতে ছয়টি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।
- B (Balance): হঠাৎ ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া।
- E (Eyes): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হারানো।
- F (Face): মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া।
- A (Arms): এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা তুলতে না পারা।
- S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
- T (Time): এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া।
প্রতিদিন সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙলে প্রথমেই এর ধরন ও কারণ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, রাতে পানি কম পান করছেন কি না, অতিরিক্ত মানসিক চাপ রয়েছে কি না এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি।
