রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা–মা।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে শিশুটির বাবা–মা সাক্ষ্য দেন। প্রথমে সাক্ষ্য দেন বাবা, পরে মা।
মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। তাঁদের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য আদালত আজকের দিন গতকালই ধার্য করেন।
আজ সকাল ৯টার দিকে আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ১০টা ১২ মিনিটে সোহেলকে, আর সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে স্বপ্নাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
কাঠগড়ায় ওঠানোর পর স্বপ্না কাঁদতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান সোহেল। তাঁকে থামিয়ে দেয় পুলিশ।
সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বিচারক আসেন এজলাসে। এরপর শুনানি শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান। তিনি শুরুতে আসামি সোহেলের গণমাধ্যমে এলোমেলো কথা বলার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান, আসামিরা যাতে যাতায়াতের সময় গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ না পান।
এরপর সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন শিশুটির বাবা। তিনি অসুস্থতার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন। বিচারকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন।
শিশুটির বাবা তাঁর সাক্ষ্যে বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি বের হন। বনানী–কাকলীতে পৌঁছানোমাত্র তাঁকে তাঁর স্ত্রী ফোন দেন। তখন সকাল সোয়া ১০টা বাজে। তিনি বাসায় ফিরে আসেন। এসে দেখেন, বাসার সামনে অনেক লোক জড়ো হয়েছেন। তিনি দৌড়ে তাঁর ফ্ল্যাটের সামনে যান। দেখেন, সেখানে অনেক লোক। তাঁর স্ত্রী বলেন, মেয়ে পাশের ফ্ল্যাটে আটকা পড়ে আছে। আশপাশ থেকে লোকজন জড়ো হন। তাঁরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। অন্যরাও ভাঙার চেষ্টা করেন। পরে তালা ভেঙে দরজা খোলা হয়। ভেতরে ঢুকে কমন রুমের দরজা খুলে দেখেন, শুধু রক্ত আর রক্ত। ভেতরে ঢুকে দেখেন, স্বপ্না দাঁড়িয়ে আছেন রক্তের ওপর। স্বপ্নারা যে রুমে থাকেন, সেই রুমেও গিয়ে দেখেন রক্ত। তাঁদের স্টিলের খাট। সেই খাটের নিচে তাঁর মেয়ের খণ্ডিত লাশ ছিল। মাথা ছিল বিচ্ছিন্ন। এরপর আর কিছু তাঁর মনে নেই। পরে তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেন।
পরবর্তী প্রশ্নে এই বাবা বলেন, মেয়ের মাথাটা ছিল বালতির ভেতরে। এ সময় আইনজীবী খণ্ডিত মাথার ছবি দেখালে কাঠগড়ায় বসে কেঁদে ফেলেন বাবা। পরে শিশুটির বাবাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
