এতদিন নতুন সিনেমা না করার কারণ কী?
কাজের প্রস্তাব যে আসেনি, তা নয়। অনেক সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু আমি সব সময় চেষ্টা করি গল্প, চরিত্র এবং পুরো প্রজেক্ট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে। যে ধরনের কাজ করতে চেয়েছি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেটা মেলেনি। তাই অপেক্ষা করেছি। আমি মনে করি, শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকার জন্য কাজ করা উচিত নয়; এমন কিছু করা উচিত, যা দর্শকের মনে থাকে।
মালিক করতে আগ্রহী হয়েছিলেন কেন?
যখন সিনেমাটির প্রস্তাব পাই, তখনই জানানো হয়েছিল এটি ঈদের জন্য পরিকল্পিত একটি বড় প্রজেক্ট। গল্পটিও আমার কাছে আলাদা লেগেছে। অ্যাকশন ঘরানার গল্পে কাজ করার সুযোগ ছিল। পাশাপাশি আরিফিন শুভ ছিলেন। সব মিলিয়ে মনে হয়েছে এটি এমন একটি কাজ, যেটা দর্শকদের সামনে নতুনভাবে আমাকে উপস্থাপন করতে পারবে।
সিনেমায় আপনার চরিত্রটির নাম মায়া। চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলুন।
মায়া চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। দর্শক আমাকে এখানে দুই রূপে দেখতে পাবেন। একদিকে সে খুব চঞ্চল, প্রাণবন্ত; অন্যদিকে তার আরেকটি ভিন্ন দিকও রয়েছে। চরিত্রটির বিভিন্ন স্তর আছে, যা অভিনয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। মোটকথা, মায়া চরিত্রটি মূলত একের ভেতর দুই। তবে বাস্তব জীবনে আমার সঙ্গে পর্দার মায়ার খুব বেশি মিল নেই। তাই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। বেশ কয়েক মাস রিহার্সাল করে মায়া হয়ে উঠতে পেরেছিলাম।
পর্দার এই মায়াকে আপনি দশে কত নম্বর দেবেন?
মায়া চরিত্রটি আমার করা। নিজের চরিত্রটি ভালো লেগেছে বলেই তো করেছি। এই মায়া হয়ে উঠতে আমি আমার সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি তো দশে দশই দেব। তবে আমি দিলে তো হবে না; স্বীকৃতি দিতে হবে দর্শকদের থেকে। এখানে নাম্বারিংয়ের কোনো বিষয় না। চরিত্রটি যদি দর্শকদের ভালো লাগে, তাহলেই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।
বিদ্যা সিনহা মিম। ছবি: ফেসবুক
সিনেমাটি মুক্তির পর আরিফিন শুভর সঙ্গে আপনার রসায়ন আলোচনায় এসেছে। কী বলবেন?
শুভ ভাইয়ের সঙ্গে এর আগেও কাজ করেছি। আমাদের মধ্যে কাজের বোঝাপড়া ভালো। ‘তারকাঁটা’, ‘সাপলুডু’ সিনেমার পর এবার ‘মালিক’ আমাদের তৃতীয় সিনেমা। দর্শক আমাদের জুটিকে গ্রহণ করেছেন বলেই হয়তো আলোচনা হচ্ছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়।
ঈদের দিন থেকেই মালিক নিয়ে হলে হলে ঘুরলেন। গিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন দেখছেন?
দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়া সব সময়ই অন্যরকম অনুভূতি। বিভিন্ন হলে গিয়ে দেখছি দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করছেন। তারা এসে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন, মতামত জানাচ্ছেন। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। আমরা যে প্রত্যাশা নিয়ে সিনেমাটি করেছি, তার চেয়েও বেশি সাড়া পাচ্ছি।
‘পরাণ’-এর পর আবার ঈদের সিনেমায় ফিরলেন। তুলনা আসে কি?
দর্শক যখন কোনো কাজকে ভালোবাসেন, তখন সেই কাজের সঙ্গে পরবর্তী কাজের তুলনা আসবেই। ‘পরাণ’ আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিনেমা। তবে আমি সব সময় নতুন গল্প ও নতুন চরিত্র নিয়ে কাজ করতে চাই। মালিক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের সিনেমা। তাই আমি চাই দর্শক এটিকে তার নিজস্ব জায়গা থেকে মূল্যায়ন করুন।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সিনেমার পরিবর্তন কীভাবে দেখছেন?
আমি খুবই আশাবাদী। এখন দর্শক হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখছেন, আলোচনা করছেন। নির্মাতারা নতুন গল্প বলার চেষ্টা করছেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও উন্নতি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, দর্শক এখন ভালো কনটেন্টকে সমর্থন দিচ্ছেন। এটা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
সামনে কী ধরনের কাজ করতে চান?
আমি সব সময় ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করতে চাই। এমন গল্পে থাকতে চাই, যেখানে অভিনয় করার সুযোগ থাকবে। সংখ্যার চেয়ে মানকে বেশি গুরুত্ব দিই। দর্শক যেন প্রতিটি কাজের মাধ্যমে নতুন কিছু খুঁজে পান, সেটাই আমার লক্ষ্য।
দর্শকদের জন্য কিছু বলবেন?
যারা সিনেমা হলে গিয়ে ‘মালিক’ দেখছেন এবং আমাদের উৎসাহ দিচ্ছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। দীর্ঘ বিরতির পরও তারা আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছেন, এটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। আশা করি সবাই পরিবার নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করবেন।
