রাত ৩:৩১,  ২৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আবদুর রহমান: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। গোলাগুলিতে একজন পথচারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সিক্রেট সার্ভিসের একটি চেকপয়েন্টে সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে তিনি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাকারী ব্যাগের ভেতরে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল। গুলি ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনায় একজন সাধারণ নাগরিকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি হামলাকারীর গুলিতে নাকি পাল্টা গুলির সময় আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন। হামলার পরপরই হোয়াইট হাউস ও আশপাশের এলাকায় জরুরি লকডাউন জারি করা হয়।

এ ঘটনায় কোনো সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হননি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তামন্ত্রী মার্কওয়েন মালিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন কতটা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।”

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, হোয়াইট হাউসের নর্থ লন এলাকায় অন্তত ৩০টির বেশি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা।

এদিকে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছে এফবিআই। তবে এখনো হামলাকারীর পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত মাসেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version