জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সম্মান করা, সুরক্ষা দেওয়া এবং তা নিশ্চিত করা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক মাসে ভারতের বিভিন্ন স্থানে লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকেরা সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকে আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ আটকের সময় দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের ফৌজদারি কার্যবিধির সমতুল্য ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে জনসমাবেশে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার এবং মানবাধিকার রক্ষার অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যেকোনো বিধিনিষেধ অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে আরোপ করতে হবে এবং তা বৈধ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ, ব্যাপক সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বায়োমেট্রিক তথ্যসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তাদের সহযোগী বাহিনীগুলোর ভূমিকা তদন্তে দ্রুত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা। দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও যথাযথ প্রতিকার দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীসহ সব নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া এবং নিজেদের অভিযোগ ও দাবি প্রকাশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ নিযুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয় নিয়ে কাজ করেন। তাদের দেওয়া মতামত তাদের নিজস্ব। এসব মতামত জাতিসংঘ বা সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে সব সময় তুলে ধরে না।
