চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে দফায় দফায় টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের কথা স্বীকার করলেও মৌখিক সতর্কতাতেই অভিযুক্তকে দায়মুক্তি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হামের রোগীর স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার মহাখালী (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) যেতে হয়। এই দায়িত্বটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই বিভাগ পালনে করে থাকেন। তবে এই বিভাগের একজন স্টাফকে পাঠানোর কথা রয়েছে। সেই অনুযায়ী দায়িত্বটা পালন করে আসছেন ইপিআই বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া।
এতে প্রায় এক বছরে হামের রোগীর স্যাম্পল নেওয়ার নামে অন্তত ৩০৫টি ভুয়া স্মারক নাম্বারে, ৩০৫টি মেমো ও চিঠি ইস্যু করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, হামের রোগীর স্যাম্পল মতলব উত্তর উপজেলা থেকে ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো নির্দিষ্ট বাজেট (যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচ) বরাদ্দ করা হয়। প্রায় এক বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে সেই টাকা আত্মসাত করেছেন ইপিআই বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া। পরে সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হয়।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে সেই কর্মকর্তা এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পেয়েও এতো বড় অপরাধের কেবল মৌখিক সতর্কতাতেই দায়মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছি। তাছাড়া তদন্তপূর্বক এই ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা করতে কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, এতগুলো ভুয়া স্মারক নাম্বার ব্যবহার, ভুয়া মেমো তৈরি এবং কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে চিঠি ইস্যু করার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে এবং এর সত্যতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়া যে আমার স্বাক্ষর অনেকবার জাল করেছে তা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছি।
এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, আমি এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাষণ চন্দ্র কীর্তনিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছি এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবেই শেষ করতে চাই।
অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার এমন দাবি ও প্রতিবেদকের হাতে অভিযোগের স্বপক্ষে সব তথ্য প্রমাণ থাকার কথা জানিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়া তা অস্বীকার করেছেন। একপর্যায়ে ‘এলোমেলো’ ও ‘অসংলগ্ন’ কথা বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
এমন গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও শুধুমাত্র মৌখিকভাবে সতর্ক করার মাধ্যমে দায় মুক্ত করা ঠিক হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই বা কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে গুরুতর অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তবে অভিযুক্তকে মৌখিক সতর্ক করা বা সাধারণ ক্ষমারও কোনো সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
