অর্থপাচার ও জালিয়াতির অভিযোগে বহুজাতিক সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি জালিয়াতি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মে) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগের রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নথিপত্র যাচাই শেষে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকে দাখিল হওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিতে ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুটি বড় কারখানা গড়ে তোলে। স্বাধীনতার পর আইনত এসব পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। পিটিসি নিজেও করাচি থেকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ বুঝে নিয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন পিটিসির ফাইন্যান্স ম্যানেজার ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জামালুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ বহুজাতিক কোম্পানি বিএটিকে দখলে নিতে সহায়তা করে। এই জালিয়াতির কারণে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারিয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
