Home সারাদেশ কোরবানির পশুর গাড়িতে চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা
জুন ৩, ২০২৩

কোরবানির পশুর গাড়িতে চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক,

সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হাইওয়ে পুলিশ। বিশেষ করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে দায়িত্ব বেড়ে যায় পুলিশের এই স্বতন্ত্র ইউনিটটির। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিস্তর পরিকল্পনা সাজিয়েছে এই সংস্থা। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা সেসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. শাহাবুদ্দিন খান। তার ভাষ্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নির্বিঘ্নে গাড়ি চলাচল এবং যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

রাজধানীর উত্তরায় হাইওয়ে পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৩০ মে) বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামনে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরুবাহী ট্রাক বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে। পথে কোনোধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। এমনকি চাঁদাবাজির সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের কোনও সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা।

হাইওয়ে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ে রাখা হচ্ছে। হাইওয়েতে পেট্রোলিং এবং মোটরসাইকেল পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন এর সদস্যরা। দেশের ৯ হাজার কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক হাইওয়ের নিরাপত্তায় কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশের ৩ হাজার সদস্য। জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে প্রতিটি সদস্য নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে জনসাধারণের জনসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। মহাসড়কে কোন গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে কিংবা কোনোধরনের সমস্যায় পড়লে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যা মহাসড়কে যানজট এবং গণপরিবহন চলাচলে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

যাত্রী নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ সব সময় কাজ করে থাকে। বিশেষ করে রাতে মহাসড়কে যাত্রী নিরাপত্তা এবং যানবাহনের ভেতর কোনোধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে; সেজন্য নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। ডাকাতির মতো ঘটনা এড়াতে হাইওয়ে পুলিশ ডাকাতি প্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মনিটরিং জোরদার রেখেছে।

মহাসড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কে উপস্থিত থেকে ডিউটি করছে। মহাসড়কগুলোতে স্পিড গানের ব্যবহার আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহাসড়ক গুলোকে বেছে নিয়ে বেপরোয়া গতির বিষয়গুলো স্পিড গানের মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। যেসব মহাসড়কে যে গতি নির্ধারণ করা হয়েছে তার বেশি গতিতে চলাচলকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়ক গুলোতে সার্ভিস লেন না থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হাইওয়ে পুলিশ বিশেষ নজর রাখছে।

ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিতের মাসখানেক বাকি রয়েছে। এর আগে থেকেই মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করে আমরা বিভিন্ন প্রস্তুতি এরই মধ্যে গ্রহণ করেছি। সারা দেশ থেকে যেসব পন্যবাহী বা গরুবাহী ট্রাক যাতায়াত করবে সেসব যানবাহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের প্রতিটি কার্যালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের আশেপাশে গরুর হাট গুলোতে জোর করে কোনও ইজারাদার যেন গরুর ট্রাক থেকে গরু নামাতে না পারে সে বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। এছাড়া গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজির কোনও ঘটনা ঘটলে, সেইসঙ্গে চাঁদাবাজির সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের কোনও সদস্যের বিষয়ে অভিযোগ এলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা এরই মধ্যে যে ধরনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছি চাঁদাবাজির সাহস কেউ পাবে না বলে মনে করি। তারপরও আমরা কোনও বিষয়ে ছাড় দেবো না। এছাড়া কোন যাত্রীর কিংবা যানবাহনে হয়রানির কারণ হবে না হাইওয়ে পুলিশ; এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঈদে যারা আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যান তাদের একটি চাপ থাকে। এছাড়া পণ্যবাহী গাড়িসহ গরুবাহী ট্রাক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঈদের আগের রাত পর্যন্ত আসতে থাকে এ কারণে আসা-যাওয়ার দুপাশেই গাড়ির চাপ দেখা যায়। এই দুপাশের চাপ সামলে প্রতিটি গাড়ির যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেই সাথে জনগণের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য যাতায়াতের পথটি নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের প্রতিটি সদস্য মাঠে থাকবে। এ সময় সবার ছুটি বাতিল করা হয়। ছুটি বাতিল করা হলেও ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে এবং নির্ভীকভাবে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ঈদ আনন্দে সহায়তা করতে পারছে, এটি ভেবেই আমাদের পুলিশ সদস্যরা আত্মতৃপ্ত থাকেন।

মহাসড়কে কোনও গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে দ্রুত সেসব গাড়ি সারানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে। প্রতিটি মহাসড়কের আশেপাশে বাজার ছাড়াও যেসব মোটর গ্যারেজ রয়েছে, সেসব মোটর গ্যারেজের মেকানিকদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। যখনই কোনও গাড়ি সড়কে বিকল হয়ে পড়বে সঙ্গে সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের রেস্কিউ টিম সেসব গাড়িকে সড়কের পাশে নিয়ে আশেপাশের মোটর মেকানিকের শরণাপন্ন হবে এবং বিকল গাড়িটি বড় কোনও সমস্যা না থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে পারবে।

সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে আমরা দেখতে পাই চালকদের বেপরোয়া গতি। সেইসঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল। আমরা যেভাবে বলতে পারি, ফিটনেস বিহীন গাড়ি নিয়ে কেউ রাস্তায় বের হতে পারবে না। প্রতিনিয়ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে মহাসড়কগুলোতে।

চালক, হেলপার এবং মালিকের সচেতন করতে বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতে হাইওয়ে পুলিশ প্রতিনিয়ত মিটিং করে যাচ্ছেন। চালকদের মাথা ঠান্ডা রেখে মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে যাত্রীদের ধৈর্য ধরতে হবে। চালকদের সঙ্গে কোনও ধরনের বাজে ব্যবহার করা যাবে না।

বিভিন্ন হাইওয়ের পাশে অনেকেই বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী বাজার এবং পশুর হাট বসিয়ে থাকেন। এগুলো মহাসড়কের যতটুকু দূরে স্থাপন করা দরকার, সে অনুযায়ী স্থাপন করলেও অনেক ক্ষেত্রে আসতে আসতে মহাসড়কে চলে আসে। এতে করে মহাসড়কে যান চলাচল কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। দুর্ঘটনার একটা আশঙ্কা থেকে যায় যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে। হাইওয়েতে বাজারের অংশবিশেষ যেন মহাসড়কগুলোতে এসে না থেকে সে জন্য ইজারাদারদের এসব বিষয়ে অবহিত করা হবে। হাইওয়ে পুলিশ সহ জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য পুলিশের সমন্বয়ে এসব বিষয় মনিটরিং করা হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতে কেউ যেন কোনও ধরনের অপরাধমূলক কিংবা অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ না পায়; সে বিষয়ে তৎপর থাকবে হাইওয়ে পুলিশও। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির মতো অপরাধ ঠেকাতে সাদা পোশাকেও মোতায়েন থাকবে পুলিশের সদস্যরা। অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির সাথে টার্মিনালের কোনও সদস্যের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে সেসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয় ঠেকাতে বিভিন্ন টার্মিনালের মালিক শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

মহাসড়কে বাস ট্রাকের চলাচলের পাশাপাশি ঈদে ছোট বাহন মোটরসাইকেল চলাচলের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে যায়। সে বিষয়ে আমাদের বিশেষ নজর রাখতে হয়। ঈদের মধ্যে জাতীয় এবং আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে দেখা যায় মোট দুর্ঘটনার বড় একটি অংশ এই মোটরসাইকেলের কারণেই হয়ে থাকে। এজন্য হাইওয়ে পুলিশকে অনেকটাই তৎপর থাকতে হয় এই ছোট যানবাহন মহাসড়কে চলাচলের বিষয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *