রাত ৩:৩০,  ২৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বড় ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনকে (২৫) রাশিয়া পাঠাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করতে হয় মা জাকিয়া বেগমকে। ঢাকার একটি এজেন্সিকেই তারা দেন ৮ লাখ টাকা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া যান জাহাঙ্গীর। পরিবারের আশা ছিল, ঋণ শোধ করবেন তিনি। সেই সঙ্গে ছোট ভাই-বোনকে দেখবেন। তাদের আশা মিলিয়ে গেছে শুক্রবার পাওয়া সংবাদে। এদিন এক সহকর্মীর মাধ্যমে জাহাঙ্গীরের স্বজনরা জানতে পারেন, ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ১৮ মে জাহাঙ্গীর মাইন বিস্ফোরণে অন্য দুই বাংলাদেশির সঙ্গে নিহত হয়েছেন।

শনিবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামে গেলে তাঁর স্বজনদের আহাজারির চিত্র দেখা যায়। এই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর। তাঁর ছোট ভাই জাভেদ হোসেন ঢাকার এ কে এম রহমত উল্লাহ কলেজে অনার্স শেষ বর্ষে পড়ছেন। পাশাপাশি পিয়নের কাজ করছেন। ছোট বোন জান্নাতুল হাবিবা (১২) এলাকার কান্দাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

সন্তানের জন্য নিজের জীবনের লড়াইয়ের গল্প বলতে গিয়ে বুক চাপড়ে আহাজারি করছিলেন জাকিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টসে কাজ কইরা দুই পোলারে পড়াইছি। কোনো সঞ্চয় করলাম না। ১০ লাখ টেহা ঋণ কইরা বড় পোলারে রাশিয়া পাডাইছিলাম। ভাবছিলাম রোজগার কইরা ঋণও শোধ দিব, সংসারেরও উন্নতি করব। আর কোনো অভাব থাকব না, দুঃখ-কষ্ট থাকব না। এহন সব শেষ অইয়া গেল। অহন আমার কী অইব। ছোট মেয়েডারে কেডা দেখব?’

রাশিয়া থেকে টাঙ্গাইলের মৃদুল নামে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধু গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ভিডিও কলে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। এর পর থেকেই পরিবারে চলছে আহাজারি। পাড়াপ্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনের কান্না কেউ থামাতে পারছেন না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version