বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করতে অনেকে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা চালালেও দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনোই সেই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, সব ধর্মের মানুষ যেন তার ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে সেই কাজই করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সেই সাথে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার ব্যবস্থা করেছে প্রধানমন্ত্রী। সব ধর্মের মানুষের বসবাস এদেশ ফুলের বাগান।

এ বাগান নষ্টের পাঁয়তারা করলে তাদেরকে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দেন রিজভী।

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পূজা মন্দির পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সমাজ থেকে দানবীয় অসুররূপী অসত্যকে বিনাশ করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা- এটাই হচ্ছে দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাষ্ট্র হচ্ছে প্রত্যেকটি মানুষের। তার সকল কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তার সুরক্ষা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যে কথাটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, ‘যার যার ধর্ম থাকতে পারে, বিশ্বাস থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সবার সমান অধিকার রয়েছে’। আমরা সেটাতেই বিশ্বাস করি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমরা একসাথে জারি গান শুনি, আমরা একসাথে বিভিন্ন পার্বণে কীর্তন শুনি। আমাদের নানা ধরনের সাংস্কৃতিক যে কর্মকাণ্ড- আমরা গম্ভীরা বলি, আমরা যাই বলি না কেন, আমাদের লোকজ সাংস্কৃতিক ধারা আমরা হাজার বছর ধরে, শত শত বছর ধরে একসাথে সেখানে অংশগ্রহণ করেছি। ধর্ম-বিশ্বাস যার যার তার তার কাছে রয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব, প্রত্যেকে যেন তার ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তার নিরাপত্তা দিতে পারে- যেটি তারেক রহমান নিশ্চিত করেছেন। আমরা তো একই জাতির সন্তান! অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমানের যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কথা বলেছেন, সেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে প্রত্যেকের জায়গা, প্রত্যেকের স্থান সেখানে সংরক্ষিত আছে। এটা এমন একটি বাগান, যে বাগানে অনেক ধরনের ফুল আছে, কিন্তু একই বাগানে সেগুলো ফুটে উঠবে। প্রত্যেকটি ধর্ম সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করে তারা তাদের উৎসব এবং ধর্ম পালন করবে, তাদের বিশ্বাসের চর্চা করবে।

রিজভী বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকার কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। হিন্দু ভাইদের পক্ষ থেকে দু’দিন ছুটি চাওয়া হয়েছিল, সেখানে তিনি তিন দিন ছুটি দিয়েছেন এবং এবারে পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করতে পারছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকে, সেখানে সরকার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিচ্ছে। সরকার প্রধান যা ঘোষণা দিয়েছেন, তার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। প্রত্যেকটি মন্দিরের পুরোহিত এবং সেবাইতরা তারা সরকারের সম্মানী পাবে প্রতি মাসে। এই পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন .

আপলোডকারীর তথ্য
Leave A Reply

Exit mobile version