দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবসায়িক রূপান্তর, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’।এআই-ফিকেশন ফর টুমরোজ ইকোনমি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রায় ৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে।
‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেল কেন্দ্রে আয়োজিত এই সামিটের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং তিনটি পৃথক বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন থাকবে। এতে বক্তা, আলোচক, বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথি মিলিয়ে প্রায় ২৭ জন অংশ নেবেন। নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পোদ্যোক্তা, প্রযুক্তি পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সম্মেলন উপলক্ষে প্রায় ১৪২টি স্টল নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও উদ্ভাবকেরা নিজেদের পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন তুলে ধরবেন। প্রদর্শনীতে পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের চারটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এছাড়া দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজসহ মোট ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
আয়োজকদের তথ্যমতে, সম্মেলনে ডিসিসিআই ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ২ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেবেন। পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনে প্রায় ২০০ জন করে আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন।
সম্মেলনের আলোচনায় ব্যবসা ও শিল্প খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের রূপান্তর, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগের সুযোগ এবং দায়িত্বশীল এআই উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় উদ্ভাবন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সম্মেলনটি ভূমিকা রাখবে।
