২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এ মামলার অপর আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। পরে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রেজিস্ট্রারের কাছে সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

অভিযুক্ত সাতজন হলেন—সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, সাত আসামির মধ্যে ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর আসামি মির্জা আজম পলাতক।এর আগে গত ২৬ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা পড়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতেও অংশ নিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমনকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের নেতারা আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং তা কাজে লাগিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা এসব নেতা পরিকল্পনা, উসকানি, সহযোগিতা ও নির্দেশনার মাধ্যমে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে শেখ হাসিনা ও অভিযুক্তদের কথোপকথনের রেকর্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তও প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত কর্মকাণ্ডের অংশ।

উল্লেখ্য, ডা. দীপু মনি ও ড. আব্দুর রাজ্জাক ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলারও আসামি।

নিউজটি শেয়ার করুন .

আপলোডকারীর তথ্য
Leave A Reply

Exit mobile version